আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর জীবনের প্রথম ঐতিহাসিক বিদেশ সফরের জন্য বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ায় দেশটিতে বসবাসরত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা, আনন্দ ও নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুরে যাওয়ার সব ধরনের জোরালো প্রস্তুতি বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে চলছে। এই হাই-প্রোফাইল সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মালয়েশিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পরিসরে এখন আলোচনার ঝড় বইছে।
প্রবাসীদের মূল প্রত্যাশা, দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন জটিল বিষয়, বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আনডকুমেন্টেড (নথিপত্রহীন) বাংলাদেশিদের পুনরায় বৈধতার সুযোগ সৃষ্টি এবং বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালুর প্রশ্নটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই আপকামিং সফরকে স্বাগত জানিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন প্রবাসীরা। অনেকেই গভীর আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন আইনি সমস্যা ও প্রশাসনিক জটিলতার সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
মালয়েশিয়া যুবদলের সভাপতি জসিম উদ্দিন সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "সরকারপ্রধানের এই সফর শুধু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে না, বরং প্রবাসীদের নানাবিধ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্থায়ী সমাধানের ক্ষেত্রেও মাইলফলক ভূমিকা রাখবে। আমরা জোরালো আশা করছি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা ও নতুন করে সম্প্রসারণের ব্যাপারেও ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।"
একই সুর মেলালেন মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। তিনি বলেন, "আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বড় ধরনের ব্রেক-থ্রু বা অগ্রগতি হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় আনডকুমেন্টেড বাংলাদেশিদের বৈধ হওয়ার সুযোগ এবং সিন্ডিকেটমুক্ত, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও কম খরচে একটি কর্মীবান্ধব শ্রমবাজার গড়ে তোলার বিষয়ে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসে, তবে তা হাজারো রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হবে।"
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২১ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন এবং সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ, শ্রমবাজারের আধুনিকায়ন, নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এজেন্ডা হিসেবে স্থান পেতে পারে।
কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের বিষয়টি প্রটোকল অনুযায়ী নিশ্চিত করেছে। সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের সমস্ত প্রস্তুতি জোরকদমে এগিয়ে চলছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সূচি ও খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ থেকে ২২ জুন তিনি মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর ঠিক পরপরই ২৩ থেকে ২৬ জুন তাঁর দূরপ্রাচ্যের পরাশক্তি চীন সফরেরও একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি রয়েছে। তবে মালয়েশিয়ার সফর শেষ করে তিনি সরাসরি বেইজিং যাবেন নাকি মাঝখানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ঢাকায় ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এবারের মালয়েশিয়া সফরের অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় আলোচ্য বিষয় হতে পারে থমকে থাকা অভিবাসন ও জনশক্তি রপ্তানি খাত। প্রায় দুই বছর ধরে নানা জটিলতায় বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার বিশাল শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে এই বৈঠক থেকে একটি ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক যৌথ ঘোষণা আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার বিষয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটা খুব দ্রুতই খুলে যাবে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন কিংবা সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যেই এই পুরো বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।"
প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফর সম্পর্কে মন্ত্রী আরও জানান, এ বিষয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরে নিবিড় আলোচনা চলছে। নতুন কোনো দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (MoU) বা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও, সংশ্লিষ্ট যাবতীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আপনার মতামত জানান:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম বিদেশ সফরের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কি সিন্ডিকেটমুক্ত হয়ে পুনরায় চালু হতে পারবে? আপনার মূল্যবান মতামত নিচে কমেন্ট করুন।
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর, মালয়েশিয়া ও চীনের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, জনশক্তি রপ্তানি এবং রেমিট্যান্সের সব ব্রেকিং ও এক্সক্লুসিভ নিউজ সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |